ঈশ্বর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষদের সাথে আপনার কোন স্মৃতি আছে কি?

ForumCategory: ঈশ্বর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ঈশ্বর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষদের সাথে আপনার কোন স্মৃতি আছে কি?
Asim asked 6 months ago

ঈশ্বর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০০ পূর্ণ হয়েছে। এই বিদ্যালয় থেকে ১০০টি ব্যাচ বের হয়েগিয়েছে। যে যে সময়ে এই বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করেছেন সেই সময়ের শিক্ষকদের সাথে আপনার নি:শ্চয় রয়েছে কিছু স্মৃতি যা হতে পারে অনেকের নিকট শিক্ষনীয়। আপনার প্রিয় শিক্ষকের সাথে থাকা, আপনার স্মৃতি শেয়ার করতে পারেন। উত্তর প্রদানের মাধ্যমে।

1 Answers
Asim answered 6 months ago

আমি ঈশ্বর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০১ সালে এস এস সি পাস করেছি। প্রত্যেকটা মানুষের স্কুল জীবনের শিক্ষকদের সাথে থাকে অনেক মধুর স্মৃতি। আমাদের সেই সময় ঈশ্বর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন প্রয়াত আর্শেদ আলী চৌধুরী। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। 
স্যার কে আমরা প্রচন্ড পরিমান ভয় পেতাম স্যার যখনি বিদ্যালয়ে আসত তখন আমরা যে যেখানে থাকতাম সাথে সাথে দৌড় দিয়ে ক্লাশে চলে যেতাম। কিন্তু স্যার মূলত তার সকল ছাত্র-ছাত্রীদের খুব ভাল বাসতেন। স্যারের সাথে রয়েছে অনেক স্মৃতি আজ একটি স্মৃতি খুব মনে পড়ছে সেটাই শেয়ার করছি। বিষয়টি হল স্যারের শেখানোর কৌশল।
আমি তখন সবে মাত্র H.S.C পাস করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দেবার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ফর্ম উঠিয়েছে। ফর্মের সাথে সার্টিফিকেট, প্রশংসা পত্র জমা দিতে হয়। সব কিছুই আছে কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রশংসা পত্র নেই মানে হারিয়ে গিয়েছে। তখন বিদ্যালয়ে যাই প্রশংসা পত্রের দ্বী-নকল উঠানোর জন্য। যথারীতি এপ্লিকেশন করি। বেলায়েত স্যার সব কিছু ঠিক ঠাক করে মানে প্রশংসা পত্র লিখে রেডি করে স্যারের (প্রধান শিক্ষক) নিকট নিয়ে যায়। সাধারনত প্রশংসা পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে কাউকে স্যার তার রুমে ডেকে পাঠান না। স্যার আমাকে বাইনেমে চিনত। স্যার আমাকে তার কক্ষে ডেকে পাঠালেন। আমি স্যারের রুমে প্রবেশ করলাম। তার পরের ঘটনার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। স্যারের রুমে প্রবেশ করার পর স্যার আমাকে বললেন “কান-ধর” আমি তো অবাক হয়েগেলাম স্যার কি বলতেছে। কিছু বুজে উঠার আগেই আবার বলল “কান-ধরে দাঁড়িয়ে থাক” কি আর করার আমি তখন কান ধরে দাঁড়িয়ে রইলাম। বিশ্বাস করেন তখন এতটাই কষ্ট পাচ্ছিলাম ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। চোখ মুখ লজ্জায় লাল হয়েগিয়েছিল। ‍খুব রাগ হচ্ছিল। কারন তখন স্যারের রুমে চলছিল মিটিং মানে স্কুলের সব স্যারেরা উপস্থিত ছিলেন।
অবশেষে কিছু সময় পর বেলায়েত স্যার স্যারকে (প্রধান শিক্ষক) বললেন স্যার তমালের প্রশংসা পত্রটি সাইন করে দিন। তখন স্যার আমাকে বলল “কান ছাড়” ততক্ষনে আমার প্রায় কান্না কান্না অবস্থা। আমি কান ছেড়ে দিলাম আর মনে মনে বলতে লাগলাম হে ভগবান আমাকে রক্ষা কর। তখন স্যার আমাকে তার নিকট ডাকলেন। আমি স্যারের নিকট গেলাম তখন স্যার তার ড্রয়ার খুলে আমাকে বলল ড্রয়ারের ফাইলটা বের কর। আমি ফাইলটা বেরকরলাম স্যার ফাইলটা খুলে আমাকে দেখালো তার প্রশংসা প্রত্র এবং বলল আমি কত বছর আগে এস এস সি পাস করেছি এখনো আমার প্রশংসা পত্র কত গুলো কপি করে রেখেছি এবং প্রশংসা পত্র সযত্মে রেখেছি। আর দুদিন হলনা পাস করেছ আর অমনি প্রশংসা পত্র হারিয়েফেলেছ। পরে আমি প্রশংসা পত্র নিয়ে স্যারকে সেই শেষবার সালাম করে এসেছিলাম। আর সলাম করতে পারিনি। স্যার আমাদের মায়া ত্যাগকরে চলেগিয়েছেন।
স্যারের কথা গুলা আজও আমার কানে বাজে। ওই দিনের পরে আমি বুঝতে পেরেছিলাম গুরুত্ত্বপূর্ণ জিনিসের গুরুত্ত্ব দিতে হয়। স্যারের এই নিনজা টেকটিকে আমি আমার সন্তানদেরও অনেক কিছু শিখিয়ে থাকি। যাহা তারা তাদের সমগ্র জীবনে ভুলবে না। আমিও কিন্তু ভুলিনি। 
স্যারের আত্মার শান্তি কামনা করি। সৃষ্টিকর্তা যেন তাকে বেহেস্তবাসীকরেন।